মজার ভালবাসার গল্প | Bangla Funny Love Story

গল্প: জুথীর আব্বু

“আম্মুউউউউউ,,, কোলবালিশ টা ফ্যানের সাথে
ঝুলাইছে কে???”
.
সাত সকালে ব্রাশ করে ছাদ থেকে নেমে
আমার
আদরের কোলবালিশটার ওপর এহেন
হিংস্রতামূলক
আচরণ দেখে মাথাটাই চড়কে গেল…
:- ওই আম্মু.. কোলবালিশটা,,,,,
,,,,,,,,,,,,,
:- আমি জানি না……
:- তুমি জান না মানে?? ঘরে তো তুমি আর আমি
ছাড়া
কেউই নেই…… তাইলে এই কাজ করলো কে??
:- নাইসা আছে না!! ও এসেছিল…….
:- ওই মেয়ে???? আবার তুমি ওই মেয়েরে ঘরে
ঢুকতে দিসো?? বাড়িওয়ালার মেয়ে বলে কি
যখন
তখন ঘরে আসবে নাকি?? আর আসলেও আমার
রুমে ঢুকতে দিসো ক্যান?? ওর জ্বালায়
মাথাটা পুরা
গরম…….. প্রতিদিনই আইসা আমার কিছুনা কিছু
সমস্যা
করবেই….
এখন যদি ওরে হাতের কাছে,,,,,,,,,,,
,,,,,,,,
.
কথা শেষ না করে বারান্দায় তাকাতেই আমার
চক্ষু
চড়াকগাছ… নাইসা দাড়িয়ে আছে…..
আর আমার দিকে ভ্রু কুঁচকে মিটিমিটি
হাসছে…..
.
আমি তো এবার শেষ.. কোনোমতে আম্মু কে
বললাম,,
:- ওনি আসছে.. ওনাকে বসতে দিবা না???
নাস্তা দাও ওনাকে….
আমি গেলাম মা….. ক্লাস আছে……
.
এই বলেই দিলাম দৌড় ….. জানি, বাসায়
থাকলে আজ
আর রক্ষা নেই…..
.
.
.
===========
আমি ছাকিব .. বাবা মা’র দুইমাত্র সন্তান ….
অর্থাৎ আমার
আরেকটি বোন ও আছে….. ছোট বোন|
ভার্সিটিতে সবে উঠলাম মাত্র… আগে মিরপুরই
থাকতাম…. কিন্তু এখন ভার্সিটির কাছাকাছি
একটা বাসা ভাড়া
নিয়েছি.. এখান থেকে আমার ভার্সিটি
যেমন কাছে
তেমনই আব্বুর চাকরিতেও যেতে সহজ হয়……..
.
মেয়েদের সাথে তেমন উঠাবসা নেই….
লাজুকতা
টা বংশের না….. তারপরও কেন যেন এটা আমায়
ঝেঁপে থাকে…. ভার্সিটিতে আমার সাথে
পড়া
মেয়েগুলোকেও আপনি করে বলি…….
একমাত্র ছোট বোনটার সাথেই যত দুস্টামি
আমার…..
.
.
যেদিন এই বাসায় নতুন উঠতে যাচ্ছি
সেদিনকের
কথা……..
” ভ্যানে মালগুলো উঠিয়ে দিয়ে বন্ধুর সাথে
আগেই ফ্ল্যাট টা দেখতে গেলাম….. এই
এপায়ার্টমেন্ট এর যুগে ভাড়া বাসা ভালো
পাওয়া খুবই
রের ব্যাপার….
কিন্তু ৩ তলা এই বাড়িটা দেখে চোখটাই
জুড়িয়ে
গেল.. বাহির টা এত সুন্দর যে বলে বুঝানো
যাবে
না….
কিন্তু এসব সুন্দরের মাঝেও অন্য এক সুন্দর
চোখ ঘুরিয়ে নিল………
একটা মেয়ে.. সবুজ সেলওয়ার কামিজ পরা…
.
শুধু এতটুকুই মনে আছে…….
পাশ থেকে বন্ধু টা দুষ্টামি করে ফিসফিস করে
বলে উঠলো..
” আজকাল দেখি মেয়েরাও ছেলেদের বাসার
সামনে ঘুরঘুর করে ….”
.
মেয়েটা কিভাবে যেন কথাটা শুনে ফেলল…..
আর ঘাড় ঘুরিয়ে আমার দিকে এমনভাবে চাইল
যেন
কথাটা আমি বলেছি….
মেয়েটি আমাদের দিকে এগিয়ে আসছিল…..
দুজনই তখন দৌড় …. কিন্তু বিধিবাম,, জুতাটা
ছিঁড়ে
গেল….. কি আর করার… জুতা ফেলেই দিলাম
ভোঁ
দৌড় …
.
.
.
///////
নতুন বাসায় উঠে মনটাই ভরে গেল……. বাহিরটা
যেমন সুন্দর ভেতরটা তো আরো……….
.
মালামাল সব ঠিকঠাক ভাবে সাজানো
মোটামুটি
শেষ…… সন্ধ্যা তখন ৮ টা…..
হঠাৎ দরজায় টোকা পড়ল…. আম্মু দরজাটা খুলতে
বলল…
যেই না দরজা খুললাম, ওমনি হাই ভোল্টের
একটা শক
খেলাম……
সকালের ওই মেয়েটা দাড়িয়ে যে,,,,!!!!
.
আমি দৌড়ে নিজের রুমে চলে এলাম…
এই মেয়ে এখানে কিভাবে?? পাশের
ফ্ল্যাটের
নয়তো??
ওহ. পাশের ফ্ল্যাট তো ভাড়াই হয়নি……
.
এসব যখন ভাবছিলাম তখন দরজার দিকে
তাকাতেই
আবার শকড……
মেয়েটা এবার আমার রুমের দরজায় দাড়িয়ে
একটা
পলিথিন ব্যাগ নিয়ে….
আমি তো ভয়ে শেষ…..
মেয়েটা ধীরে ধীরে আমার দিকে এগিয়ে
আসল… হাতের ব্যাগটায় ভালোভাবে
তাকাতেই
বুঝতে পারলাম ওইটায় জুতা…..মেয়েটা ব্যাগ
থেকে জুতা জোড়া বের করল…… এবার আমার
চোখ দুটো ঢাউস সাইজের ফুটবল হয়ে গেল…..
আমায় আবার মারবে না তো??
মেয়েটা জুতা জোড়া বের করে বলল,,
” আপনার ওই দিনের ছিড়েঁ যাওয়া জুতো …..
আমি
সেলাই করে রেখে দিয়েছি… ”
আমি কোনমতে ঢোক গিললাম…
মেয়েটা আমার এহেন বেগতিক অবস্থা দেখে
একটা ক্রুর হাসি হেসে চলে গেল…..
.
.
মেয়েটা চলে যেতেই দৌড়ে গিয়ে আম্মুকে
জিজ্ঞেস করলাম…
:- আম্মু, মেয়েটা কে???
:- কেন? পছন্দ হইছে নাকি??
:- আরে ধুর… আগে বল তো,,,,,,,,,,
:- তোর বাড়িওয়ালা আঙ্কেলের মেয়ে…..
নাইসা…
.
.
আমি আর কিছু বললাম না… সোজা রুমে চলে
এলাম….বুঝলাম, সাপের গর্তে ইঁদুর ঢুকে
পরেছে….
আর ইঁদুর টা হলাম আমি……
=============
.
এই হলো আমার আর নাইসার পরিচয় পর্ব …
ওকে এক প্রকার জম ই মনে করি আমি..
ওই দিন রাস্তায় বাজে কথা বলায়
ছেলেটাকে যেই
মাইর দিছিল… তাতে ভালোই বুঝলাম যে., যা
হচ্ছে
সবই ওইদিনের বরকত…..
.
.
নাইসা আমার আম্মুকে এক প্রকার পটিয়ে
ফেলেছে…. সুযোগ পেলেই বাসায় এসে
বসে থাকে….
অবশ্য আম্মু ও বা না করবে কেন!!
ও আম্মু কে যতটা হেল্প করে তার ছিটেফোঁটাও
কি আমরা করি??
.
আর বাসায় আসার সবচেয়ে বড় কারণ হলো আমায়
জ্বালানো….ওই দিন যে কোন ভুলে বাসা
দেখতে এসেছিলাম!! আর ওই বজ্জাত
ফ্রেন্ডটারেও বানাইতে ইচ্ছা করে… ওই
সালার
ব্যাটার জন্যই আজ আমার এই অবস্থা ….
কয়েকবার সাহস করে বলতেও চেয়েছি যে,, ওই
দিনের ওই কথাটা আমি বলিনি.. কিন্তু
পারিনা…….
অবশ্য এখন বলেও লাভ নেই…. যা হবার সেটা তো
হচ্ছেই………..
.
.
.
আমার রুমে এসে সারাদিন এইটা ওইটা
হাতানো ওর
একটা অভ্যাস হয়ে দাড়িয়েছে …
বই গুলো এলোমেলো করে রাখা,, ভাজ কাপড়
গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা ওর নিত্যদিনের
দায়িত্ব
….
আর এখন নতুন যুক্ত হলো “কোলবালিশ
ঝোলানো ”
.
.
.
২|
ভার্সিটি থেকে বের হয়েই ফ্রেন্ডগুলার
সাথা
আড্ডা দিচ্ছিলাম…. সকালের কোলবালিশ
কান্ড মাথাটা
গরম করে রেখেছে…… হঠাৎ ই কোত্থেকে
যেন নাইসা উদয় হলো…..
:- এই,, এখানে কি করছো??
:- এইত ফ্রেন্ড দের সাথে…. হি হি হি…..
:- চলো আমার সাথে…
:- কোথায়?
:- আসতে বলছি,,,,,,,,,
.
এই ভর দুপুরে সারা রাস্তা ঘুরালো আমায়….
অবশ্য ১ হালি আইসক্রিম ও শেষ করে ফেলেছি

অবশেষে বিকেলে বাসায় ফেরা….
.
বাসায় ঢুকেই আম্মুকে বলল,,
:- আন্টি, আপনার ছেলে কোন মেয়ের সাথে
যেন সারাদিন ঘুরে এসেছে…….
.
আমি তো এইটা শুইনা পুরাই টাস্কি … আম্মু কে
কিছু
বলব তার আগেই ও বলে উঠল,,
” এই যে. আন্টিকে ভুলভাল কিছু বুঝাতে যাবা
না….
আমি কিন্তু সব দেখছি….”
.
কি আর করা… চুপচাপ রুমে ফিরে এলাম.
উঁকি মেরে ডাইনিং রুমে তাকাতেই
দেখলাম,, নাইসা
মিটিমিটি হাসছে… সাথে আম্মু ও…
আমার তখন রাগে পিত্তি জ্বলে যাচ্ছিল….
.
নাইসা চলে যেতেই সোজা আম্মুর কাছে
গিয়ে
বললাম,,
:- আম্মু, ,, ও কিন্তু …………….
:- মিথ্যা তো বলেনি.. তুই বল,, সারাদিন কি তুই
কোন
মেয়ের সাথে ঘুরিসনি???
.
আমি আর কোন কথা বললাম না….. জানি, বলেও
লাভ
নেই…
.
.
রাতে শুয়ে শুয়ে গেমস খেলছিলাম … আবার
নাইসার আগমন …. এসেই মোবাইলটা কেড়ে
নিয়ে
বলতে লাগল,,,
“সারাদিন মোবাইলে কি?? হাহ.. পড়তে
বসো……”
.
কি আর করার.. বাধ্য হয়ে বই নিয়ে শুয়ে থাকলাম

আর ও আমার পাশেই বসে থাকল..
রাগে তখন চুল ছিড়তে ইচ্ছে করছিল… অনেক
প্ল্যান মাথায় আসছিল….. এসব প্ল্যানিং করতে
করতে
কখন যেন ঘুম চলে এলো….
কাঁচা ঘুমে অনুভব করলাম,,,, নাইসা আমার বইটা
মুখের
উপর থেকে সরিয়ে নিল এবং আলতো করে
কপালে একটা চুমু এঁকে চলে গেল…….
.
.
.
৩|
এভাবেই কাটছিলো আমার দিনগুলো….আমার
প্রতি
মুহুর্তের ছায়া মানবী ও…. প্রথম প্রথম নাইসা কে
বিরক্তিকর লাগলেও এখন উপভোগ্য লাগে…
দিনটা শুরু হয় নাইসাতে আর শেষও তাতে…..
সৃস্টিকর্তা যেন প্রতিদিনের পূর্নতা ওর মাঝেই
রেখেছেন….
.
ধীরে ধীরে আমি ওর প্রেমে পড়ে যাই….
আগের মত চেহারায় বিরক্তি দেখালেও মনে
মনে ঠিকই ওকে কামনা করি…. ভার্সিটি
থেকে শুরু
করে রাতে শোয়া পর্যন্ত ওর অপেক্ষায়
থাকি….
ডাইরি লিখার অভ্যাস না থাকলেও কেমনে
যেন এটা
প্রফেশন হয়ে উঠে….সারা ডাইরি জুড়ে শুধু
একটাই
বিষয় …… “নাইসা”
.
.
.
এভাবেই ১ টা বছর কেটে গেল….. একদম
শুরুতে ঠিক যতটুকু বিরক্তি মনে করতাম,, এখন তার
থেকে কতগুন বেশি ভালোবাসি তা নিজেই
জানি
না….
আমি ওকে গোপনেই শুধু ভালোবেসে
গিয়েছি….
কখনোই বলি নি… আর বলতে পারব কি না.. তাও
জানি
না… কারণ, লজ্জা যে আমায় ঝেঁপে ধরেছে….
আর নাইসা ও আমার দূর্বলতা বুঝে ফেলেছে….
আর তাই কেয়ার টাও বেড়ে গেছে… ও হয়ত
এটাও চাইত যে আমি ওকে বলি, ,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
,,,,,,,,,,,
.
.
.
৪|
প্রতিদিনের মত আজো নাইসা কে নিয়ে
ডাইরি
লিখছিলাম,,, হঠাৎ ই আব্বুর আগমন ….
:- কি রে,,, কি করিস??
:- এইত আব্বু.. কিছু না…
:- আচ্ছা শোন,, তোর জায়েদ আঙ্কেল
কয়েকদিন আগে তো মারা গেল….
:- জ্বী আব্বু,,,
:- তোর আন্টি তোকে তোর আঙ্কেলের
ব্যবসা টা ধরতে বলেছে….. তুই তো জানিসই,,
জায়েদ আর আমি কত ভালো বন্ধু ছিলাম…
তোর আঙ্কেলের কোন সন্তান নেই….
তোর উপরই তোর আন্টির ভরসা…
:- কিন্তু আব্বু,, আমার পড়ালেখা?
:- পড়ালেখা আর কি করবি!! পড়ালেখা শেষ
করেও
ভালো কিছু করার আশা নেই….. আর পড়ালেখা
করতে চাইলে ওখানেই একটা প্রাইভেট
ভার্সিটিতে
ভর্তি হয়ে যাস…..
.
আব্বু চলে গেল.. আমি চুপচাপ বসে রইলাম…
নাইসা
কে ছেড়ে আমার সেই সুদূর চিটাগাং চলে
যেতে
হবে…. তা ভাবতেই পারছিলাম না…
আর আব্বুর কথার অমান্য ও করতে পারব না….
.
.
.
আজ রাতেই চিটাগাং এর উদ্দেশ্যে রওনা হব…
কাপড় চোপড় সব গুছানো শেষ…. হঠাৎ ই নাইসা
এলো…. আমি ওকে দেখে চুপচাপ দাড়িয়ে
রইলাম…
নাইসা কে কখনোই বিষন্ন দেখিনি .. কিন্তু আজ
তার
চেহারায় স্পষ্ট পরাজয়ের ছাপ… চোখ ফেটে
যেন জল উপচে পড়তে চাইছে…. কিছু বলতে
গিয়েও যেন থমকে দাড়ালো…… একবার শুধু
চোখে চোখ রেখে বলল,,,
“ভালো থেকো……..”
.
এই বলেই রুম থেকে চলে গেল… আমিও আজ
কিছু বলতে চেয়েছিলাম….. কিন্তু ওই যে,,
লজ্জা….
.
.
ট্রেনে উঠেই নাইসার শূন্যতা টের
পেলাম….কিছুই
ভালো লাগছিল না…. জানালা দিয়ে শুধু
রাতের আকাশ
দেখছিলাম আর নাইসার সাথে আমার সময়গুলোর
স্মৃতিমন্থন করছিলাম…. ওর এত জ্বালাতন আর
কেয়ারের মাঝে আমি আমার ভালোবাসা
পাগলের
মত খুঁজছিলাম…….
.
.
.
৫|
আজ ১ সপ্তাহ হলো আমি চিটাগাং এসেছি…..
আন্টির বাড়িতেই উঠেছি…. ছোটকাল থেকেই
তারা
আমায় নিজের সন্তানের মতই দেখতেন…. আর
আজ সেটার বাস্তব প্রতিফলন …..
.
.
আঙ্কেলের ব্যবসা টা মোটামুটি বুঝে
নিয়েছি ….
কিন্তু আমার কিছুতেই কিছু ভালো লাগছিল
না….
প্রতিটি মুহুর্ত নাইসা কে মিস করতে লাগলাম..
সকালে ঘুম থেকে উঠেই সবকিছু আওলাতাম…
গুছানো বই গুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলতাম..
মাঝে মাঝে কোলবালিশ টাকে ফ্যানের
সাথে
ঝুলিয়েও রাখতাম……
.
কিন্তু এত কিছুর পরও আমি আমার নাইসা কে
কোথাও
পেলাম না….
.
.
রাতে নাইসা কে নিয়ে কিছু লিখার ব্যর্থ
চেষ্টা
চালাচ্ছিলাম….. হঠাৎ ই বোনের একটা
ম্যাসেজ
আসলো,,,
” কাল নাইসা আপুর গায়ে হলুদ” .
.
ম্যাসেজটা পড়েই আমার পৃথিবী আঁধার হয়ে
এলো…চিৎকার করে কাঁদতে চাইলাম… কিন্তু
নিরব
কান্না ছাড়া আর কিছুই করার নেই আমার….
কিন্তু না,,, আমি আমার মনের কথা যেভাবেই
হোক
ওকে বলব…. ভালোবাসি .. ভালোবাসি খুব
ওকে …
.
.
.
৬|
সকালেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করলাম…
সারাটা
ট্রেন শুধু ঢুৃঁকরেই কেঁদেছি…. পথ যেন আর
শেষ হয় না…. তবুও অনেক কস্টে পৌঁছালাম ….
.
.
বাসায় ঢুকতেই আম্মু আমায় দেখে অবাক হয়ে
গেল….
:- কি রে তুই??
:- মা, নাইসা কই??
:- তুই যাওয়ার পরও ও সারাদিন তোর রুমেই পড়ে
থাকে….
:- ওর না আজ গায়ে হলুদ???
মা আমার কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে তাকালেন…
.
আমি কথা না বাড়িয়ে দৌড়ে রুমে এলাম…
এসে দেখি
নাইসা আমার কোলবালিশটার সাথে কি যেন
কথা
বলছে….. আমাকে দেখেই ও হতচকিয়ে
গেল…
.
আমার লজ্জা শরম যেন আজ কোথায় পালিয়ে
গেল….. আমি নাইসার হাত ধরে সোজা
বারান্দায়
নিয়ে এলাম….
” দেখো, আজ তোমায় কিছু কথা বলব…
হ্যাঁ, আমি আগে তোমাকে বিরক্তিকর মনে
করতাম.
তোমাকে দেখলে দৌড়ে পালাতাম….
কিন্তু এখন????
জানো, তোমাকে ছেড়ে ট্রেনে উঠা মাত্রই
আমার ভিতরটা ছিড়ে যাচ্ছিল…
এই ১ টা সপ্তাহ কিভাবে কেটেছে আমি
নিজেও
জানি না….. সারাটা দিন তোমায় খুঁজেছি ..
বই, কাপড় সব উল্টে পাল্টে তোমায় খুঁজেছি….
কিন্তু কোথাও পাইনি ….. তোমার জ্বালাতন
তোমার
কেয়ার ক্ষনে ক্ষনে মিস করেছি…..
তোমার শূন্যতা প্রতিটি মুহুর্ত আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে
খাচ্ছিল……
.
জানি, আজ তোমার গায়ে হলুদ.. তারপরেও
বলছি,,,,,,
“ভালোবাসি তোমায় খুব”
.
.
কথাটা বলেই মাথা নিচু করে ফেললাম…..
.
:- এই কথাটা বলতে তোমার এতদিন লাগলো??
আর হ্যাঁ, আজ কার গায়ে হলুদ??
.
কথাটা শুনেই আমি আবার শকড খেলাম… আমার
হাতটা
শক্ত করে ধরে ও আবার বলে উঠল,,
” আমি তোমাকে ভালোবাসি বলেই
তোমাকে
জ্বালাই… তোমার কি মনে হয়,, আমি এই ১
সপ্তাহ
ভালোভাবে থাকতে পেরেছি?? তোমার
বিরহ
সইতে পারিনি বলেই এই আমার প্ল্যান ….
তোমার বোনকে দিয়ে আমি আমার গায়ে
হলুদের
কথা বলে ম্যাসেজ পাঠাই… আর আমার দৃঢ়
বিশ্বাস
ছিল,, তুমি আমায় ভালোবাস… আর তুমি অবশ্যই
আসবে.. অবশ্য তোমার বোন কোন মিথ্যাও
বলেনি….. এই দেখো, আমি আজ গায়ে হলুদ
দিয়েছি….”
.
এই বলে আমার দিকে ওর হাতটা বাড়িয়ে
ধরল…..
আমার লজ্জাটা যেন আবার ফিরে এলো….
আমি মাথা নিচুই করে রেখেছিলাম….. কিন্তু
তারপরেও ধীরে ধীরে মাথা উঠাতে
লাগলাম……
জানি, নাইসার চোখে যে ভালোবাসা পাব,
তা ফিরিয়ে
দেওয়ার শক্তি আমার নেই
.বাড়িওয়ালার সিনিয়র আপুর ভালবাসা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *